ট্রাম্পের আগের বৈশ্বিক শুল্ক নেয়া আজ থেকে বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত পাল্টা শুল্ক আদায় বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আদেশের সঙ্গে যুক্ত সব কোড স্থানীয় সময় আজ থেকে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার তিনদিনেরও বেশি সময় পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) আওতায় শুল্ক আদায় বন্ধের এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এল যখন ট্রাম্প শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়া শুল্কগুলোর পরিবর্তে ভিন্ন এক আইনি ক্ষমতার আওতায় নতুন ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েকদিন পরও কেন প্রবেশবন্দরগুলোতে শুল্ক আদায় অব্যাহত রাখা হয়েছিল। আবার আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়েও বার্তায় কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

তবে আজ থেকেই ট্রাম্প ঘোষিত নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। আদালতের রায়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট পৃথক এক ক্ষমতাবলে সব ধরনের পণ্য আমদানির ওপর এ পরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও গত দুইদিন কেন শুল্ক আদায় করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সিবিপি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তাদের বার্তায় আমদানিকারকদের জন্য সম্ভাব্য অর্থ ফেরতের বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। সিবিপির বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, পাল্টা শুল্ক সংগ্রহ বন্ধের সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের আরোপিত অন্য কোনো শুল্ককে প্রভাবিত করবে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে আইইইপিএ শুল্ক থেকে আয় হওয়া প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দিতে হতে পারে। এক গবেষণা অনুযায়ী, আইইইপিএ থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সর্বোচ্চ আদালত অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না দেয়ায় ব্যবসায়ীদের ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে দেয়া শুল্কের অর্থ ফেরত পেতে তাদের কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে যেসব দেশের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করেছে, সেখান থেকে পিছু হটবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। রোববার সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সুইজারল্যান্ডসহ প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে গত নয় মাসে যে সমঝোতা হয়েছে, নতুন ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক তার বাইরে।’

গ্রিয়ার বলেন, ‘নতুন এ শুল্ক আগের চুক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’ তার কথায়, ‘আমরা চাই অংশীদাররা বুঝুক—এগুলো ভালো চুক্তি। আমরা এগুলো বজায় রাখব এবং তাদের কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করি।’

গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ১৯৭৭ সালের আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর হোয়াইট হাউজ জানায়, এখন থেকে ওই শুল্ক আর সংগ্রহ করা হবে না। কিন্তু আদালতের রায়ে দমে না গিয়ে দ্রুতই পাল্টা পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’-এর ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেন। ট্রাম্পের দাবি, তার নতুন শুল্কারোপের পথ আগের চেয়েও ‘শক্তিশালী’। কিন্তু আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ১২২ ধারার পথেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা করছে পাহাড়সমান বাধা। ফলে তার নতুন শুল্কনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্প মনে করছেন, এ ধারায় তিনি আগের মতোই একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন। কিন্তু মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা এ যুক্তিতে জল ঢেলে দিয়েছেন। এ ধারার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এর অধীনে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন এবং তা কেবল ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকে। এ সময়সীমা পার হওয়ার পর শুল্ক কার্যকর রাখতে হলে কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এ ধারা ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট বা লেনদেনে বড় ধরনের ঘাটতি থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়। নিছক রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এটি ব্যবহার করা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের দলের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আধিক্য রয়েছে। তাছাড়া রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে। ফলে ১৫০ দিন পর কংগ্রেসে ট্রাম্পের শুল্কের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

আরও